বাংলায় প্রযুক্তির সুর

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ভালো নাকি লিথিয়াম পলিমার?

0 249

লিথিয়াম আয়ন (lithium Ion) এবং লিথিয়াম পলিমার (lithium polymer) ব্যাটারি নিয়ে প্রায়ই দ্বিধার সৃষ্টি করে দেয় যে, কোনটি ভালো এবং কোনটি ভালো না তা আমরা বুঝতে পারি না। এছাড়াও আরও একটি প্রশ্ন আপনাদের মনে জাগতে পারে এই দুই ধরনের ব্যাটারির মধ্যে পার্থক্য কি? হে আজকে আপনাদের কে এই দুটি ব্যাটারি সম্পর্কে ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব।



লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিঃ

লিথিয়াম আয়ন হলো ব্যাটারি জগতে পুরনো প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি ব্যাবহারে ব্যাটারি তৈরি করা হলে ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট আকার প্রদানের প্রয়োজন পড়ে। ব্যাটারি বানাতে যে বিষয় বস্তু গুলো ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা একটু আলাদা হয়ে থাকে। ব্যাটারি দেখতে একটু মোটা হতে পারে। এবং এ প্রযুক্তিতে শুধু চারকোনা ব্যাটারি বানানোর অপশন থাকে। সুতরাং বুঝতেই পারছেন এই প্রযুক্তিতে ব্যাটারি বানালে নিদিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

লিথিয়ান আয়ন ব্যাটারি
লিথিয়ান আয়ন ব্যাটারি

এই ব্যাটারি বানানো সহজ এবং এর উৎপাদন খরচ তুলনা মূলক কম। প্রস্তুতকারকদের মতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি সংরক্ষণ করার জন্য ৪০% চার্জ ও ১৫°সে তাপমাত্রা উত্তম।


সিমাবদ্ধতাঃ

১. নিরাপদ মাত্রায় চার্জিং এর জন্য সুরক্ষা সার্কিট প্রয়োজন।

২.ঠান্ডা তাপমাত্রায় ব্যাটারির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায়।

৩.ব্যবহার না করলেও লাইফ টাইম অল্প অল্প কমে।

৪. বিস্ফোরিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

৫. যে কোন আকৃতি দেওয়ার সুযোগ কম।

৬. অপেক্ষাকৃত ভারি।

৭. ওভার হিটিং প্রব্লেম লিথিয়াম আয়নে বেশি।

লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারিঃ

একটি  আধুনিক প্রযুক্তি। লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারিতে পলিমার ব্যবহার করে তৈরী করা হয়ে থাকে এবং ভেতরের ইলেক্ট্রলাইট হিসেবে জেল ব্যবহার করা হয় ফলে ব্যাটারি অনেক ফ্লেক্সিবল বানানো সম্ভব হয়ে থাকে। এবং যেমনটা ইচ্ছা তেমন আকারের ব্যাটারি বানানো সম্ভব। উদাহরণ স্বরূপ আপনার মোবাইলের সিম কার্ড এর সমতুল্য পাতলা ব্যাটারি বানাতে পারবেন লি-পো প্রযুক্তি ব্যবহার করে। লি-পো প্রযুক্তির ব্যাটারি ইচ্ছা মতো আকার প্রদান করে বানানো সম্ভব। তাই আজকাল পরিধান যোগ্য প্রযুক্তি এবং মোবাইল ফোনে লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ব্যবহার করতে দেখা যায়। এখনকার মোবাইল ফোনগুলো অনেক পাতলা দেখায় একমাত্র লিথিয়াম পলিমার প্রযুক্তির ব্যাটারি ব্যবহারের কারনে।



লিথিয়াম আয়ন (Lithium Ion) ব্যাটারি এর একটি সংস্করণ হচ্ছে লিথিয়াম পলিমার। এর চার্জ ধারন ক্ষমতা এবং চার্জ ক্ষয় এর হার Lithium Ion ব্যাটারি এর প্রায় সমান। এর আসল পার্থক্য হচ্ছে, এটি ওজনে হালকা, আকারে ছোট, বিভিন্ন আকৃতির এবং সামান্য বেশি দীর্ঘ জীবন সম্পন্ন।

লি-পলিমার ব্যাটারি
লি-পলিমার ব্যাটারি

১. কোন তরল ইলেক্ট্রোড নেই, তাই ছিদ্র হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

২. বিস্ফোরিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ৩. যেকোন আকৃতিতে তৈরি করা যায়।

৪. কম পুরুত্বের ব্যাটারি তৈরি করা যায়, যেমন: ৩.৬ ভোল্ট, ৪০০মিলি অ্যাম্পিয়ার/আওয়ারের ব্যাটারির পুরুত্ব ০.৫মি.মি. করা সম্ভব।

৫. সমআয়তন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির চেয়ে ওজনে হালকা।

৬. কোন রকম ক্ষতি ছাড়াই এক বছরের অধিক সময় অব্যবহৃত অবস্থায় রেখে দেওয়া যায়।

সীমাবদ্ধতাঃ

১. লিথিয়াম আয়নের চেয়ে লিথিয়াম পলিমারের এনার্জী ক্যাপাসিটি কম।

২. উৎপাদন খরচ তুলনা মূলক বেশি।

লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি এবং লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারির মধ্যে পার্থক্য 




লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারিঃ

১। কেমিক্যাল রিএকশান: ইলেকট্রোলাইটের উপর নির্ভরশীল।

২। অপারেটিং তাপমাত্রা: -২০°সে. থেকে ৬০°সে.।

৩। প্রাথমিক ভোল্টেজ: ৩.৬ এবং ৭.২।

৪। সিটি: পরিবর্তনশীল (নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারির চেয়ে দ্বিগুণ)।

৫। ডিসচার্জ রেট: ফ্ল্যাট।

৬। রিচার্জ লাইফ: ৩০০-৪০০ বার কোন ক্ষয় ছাড়াই।

৭। চার্জিং তাপমাত্রা: ০°সে থেকে ৬০°সে।

৮। চার্জ স্টোরেজ লাইফ: প্রতি মাসে ০.১% এর চেয়ে কম নষ্ট হয়।


লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারিঃ

১। কেমিক্যাল রিএকশান: ইলেকট্রোলাইটের উপর নির্ভরশীল।

২। অপারেটিং তাপমাত্রা: নিন্ম ও উচ্চ তাপমাত্রায় তুলনা মূলক বেশি কর্মক্ষম।

৩। প্রাথমিক ভোল্টেজ: ৩.৬ এবং ৭.২।

৪। ক্যাপাসিটি: পরিবর্তনশীল (নিকেল-ক্যাডমিয়াম ব্যাটারির চেয়ে দ্বিগুণ)।

৫। ডিসচার্জ রেট: ফ্ল্যাট।

৬। রিচার্জ লাইফ: ৩০০-৪০০ বার কোন ক্ষয় ছাড়াই।

৭। চার্জিং তাপমাত্রা: ০°সে থেকে ৬০°সে।

৮। চার্জ স্টোরেজ লাইফ: প্রতি মাসে ০.১% এর চেয়ে কম নষ্ট হয়।

আমাদের পোস্টগুলি নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিন এবং ফেসবুক গ্রুপে যোগদিন। এছাড়াও টেক বিষয়ে যে কোন টিউটোরিয়াল পেতে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুণ।

Loading...
Subscribe To Our Newsletter

Subscribe To Our Newsletter

Join our mailing list to receive the latest news and updates from our team.

You have Successfully Subscribed!